বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীর হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন, এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৪ এম
চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীর হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন, এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় মিনহাজ উদ্দিন নামের এক যুবদল কর্মীর হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বলুয়ার দিঘির পাড় এলাকায় আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে এ হামলার শিকার হন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় মিনহাজকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বলুয়ার দিঘিরপাড় এলাকা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মিনহাজ। পথে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার একটি হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বেলা দেড়টার দিকে দক্ষিণ বাকলিয়ার বউবাজার ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। মিনহাজের অনুসারীরা প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় আরমান ওরফে এঞ্জেল নামের এক যুবক আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিনহাজ উদ্দিন মাস্টারপুল এলাকার বাসিন্দা এবং জাকির গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে আহত আরমান বউবাজার এলাকার বাসিন্দা এবং সবুজ গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

পুলিশ জানিয়েছে, বলুয়ার দিঘি এলাকা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কোতোয়ালি ও বাকলিয়া—দুই থানার আওতাধীন হওয়ায় উভয় থানা যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন মুহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মিনহাজের ওপর হামলার পর তার অনুসারীরা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দুই ঘটনায়ই মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া