কোতোয়ালীতে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবের প্রস্তুতি ভণ্ডুল, অস্ত্রসহ ১১ সদস্য গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জামালখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ডেঞ্জার’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা এলাকায় শক্তির মহড়া দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ডা. খাস্তগীর স্কুলের গেইট সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, একদল কিশোর-তরুণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়ে প্রকাশ্যে শক্তির প্রদর্শন করছে এবং পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ঘিরে ফেলে এবং অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শামিম (২২), মো. আরমান হোসেন (১৯), মো. বাপ্পী (১৯), নাছির উদ্দিন রিয়াদ (১৯), মো. সাইম হোসেন সোহাগ (১৯), মো. হোসেন (২৩), মো. আল আমিন (১৯), মো. রিয়াদ (১৯), মো. তামজিদ (১৯), মো. অনিক আকরাম (১৯) ও নিরব গাঙ্গুলী (১৯)। তাদের অধিকাংশই স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি টিপছোরা, ১টি কিরিচ, ১টি চাপাতি, ৮টি লাঠি, ১৫টি ইটের টুকরা এবং ১টি লোহার ধামা উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র দিয়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘ডেঞ্জার’ নামের এই কিশোর গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে কোতোয়ালী এলাকার বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়। গ্রুপটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে এবং মাঝে মধ্যেই এলাকায় সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তাদের উপস্থিতি অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
কোতোয়ালী থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল এবং সড়কে যান চলাচলে বাধা দিচ্ছিল। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীতে কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।








