বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫০ পিএম
পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

মোঃ আরিফুল ইসলাম,,পাবনাঃ

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া