বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে চায় সরকার: কক্সবাজারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে চায় সরকার: কক্সবাজারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠবে।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কিউট ৮ম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়ালেখা নয়, খেলাধুলাকেও পেশা হিসেবে নিতে তরুণদের উৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে এবং ক্রীড়া কার্ড প্রদান করছে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে “নতুন কুঁড়ি” প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সাতটি জনপ্রিয় ইভেন্টে প্রতিভা অন্বেষণ করা হবে। কক্সবাজারে সার্ফিংয়ের সম্ভাবনা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখানকার তরুণ সার্ফাররা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

টুর্নামেন্টে শতাধিক সার্ফার অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সার্ফারও রয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া অবকাঠামো পরিদর্শন করেন এবং সেগুলোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া