বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়: ‘মিথ্যা’ শব্দ ঘিরে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম
সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়: ‘মিথ্যা’ শব্দ ঘিরে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে এ ঘটনা ঘটে। অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে উভয় পক্ষ একে অপরের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের দিনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাকে ‘অসত্য’ বলার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ সময় কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারদর্শী।

এ বক্তব্যের পর স্পিকার বিষয়টি গত দিনের হওয়ায় তা নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন এবং মন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তবে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জবাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা ‘মিথ্যা’ শব্দ ব্যবহার করে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করেছেন এবং শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। তার মতে, ‘অসত্য’ শব্দ ব্যবহার করলে আপত্তি থাকত না।

এদিকে আগের দিনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না বলেই তিনি ‘অসত্য’ বলেছেন।

পরে বিভ্রান্তি দূর করতে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ভিন্ন নামে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি আগের তথ্য জানার ভিত্তিতেই বক্তব্য দিয়েছেন এবং এতে কোনো ভুল তথ্য ছিল না বলে দাবি করেন।

ঘটনাটি সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক বিরোধের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া