বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাহ্মণপাড়ায় বিদ্যালয়ে তাণ্ডব: প্রধান শিক্ষিকাকে লাথিতে ফেলে মারধর, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
ব্রাহ্মণপাড়ায় বিদ্যালয়ে তাণ্ডব: প্রধান শিক্ষিকাকে লাথিতে ফেলে মারধর, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। এ সময় বিদ্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ধ্বংস এবং নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সুজন অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে, লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেয় এবং টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং অফিস কক্ষ তছনছ করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাসিনা ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন ২০১৯ সালে জাল সনদের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশের কথা বলে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করেন তিনি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দ্বন্দ্বের জেরেই এই সহিংস ঘটনার সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন দাবি করেন, তিনি আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কেউ যদি শিক্ষিকাকে আঘাত করে থাকে, তারও বিচার হওয়া উচিত। তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সাব্বির সেলিম আহমেদ বলেন, “ঘটনার পর রাতেই অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল একাধিকবার পরিদর্শন করেছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান জানান, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। হামলার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া