বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দোহার-নবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: পাম্পে ‘নাই’ নোটিশ, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
দোহার-নবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: পাম্পে ‘নাই’ নোটিশ, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত দুই দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই দুই উপজেলার কয়েক শ যানবাহন চালক, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা। জ্বালানি না পেয়ে অনেককে ক্ষোভ নিয়ে পাম্প থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। সরেজমিনে গত দুই দিন ধরে দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে এক হতাশাজনক চিত্র। বেশিরভাগ পাম্পের প্রবেশমুখেই বাঁশ বা দড়ি দিয়ে আটকে রখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। দোহার ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, একটি সাইনবোর্ডের ওপর কার্টনের কাগজে লাল কালিতে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা রয়েছে “অকটেন নাই, পেট্রোল নাই, ডিজেল নাই”।
যে সব পাম্পে সামান্য পরিমাণ তেল অবশিষ্ট ছিল, সেখানে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। অনেক পাম্প জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়ায় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুরে দোহার ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টারে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন “আজ ৩ দিন ধরে আমি দোহার আর নবাবগঞ্জের প্রায় সব কটি পাম্পে ঘুরছি। কোথাও পেট্রোল বা অকটেন পাচ্ছি না।
বাইক নিয়ে বের হতে পারছি না, জরুরি কাজেও যেতে পারছি না। এভাবে চললে আমরা চলবো কীভাবে?” চালকদের অভিযোগ, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর তেল না পেয়ে অনেক চালক পাম্প চত্বরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেককে তীব্র রোদে মাইলের পর মাইল বাইক ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণ জানতে আজ দুপুরে দোহার ফিলিং এন্ড সার্ভিস সেন্টারে গেলে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পাম্পের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, ওপর থেকে (ডিপো থেকে) সরবরাহ না থাকায় তারা তেল দিতে পারছেন না।
সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। দোহার ও নবাবগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াতকারী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া, পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা এই সংকটের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া