বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মগবাজারে পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ: ওসিকে শোকজ, ২৪ ঘণ্টায় চালুর নির্দেশ আদালতের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
মগবাজারে পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ: ওসিকে শোকজ, ২৪ ঘণ্টায় চালুর নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর মগবাজার এলাকায় একটি পাঞ্জাবির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে শোকজ করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মগবাজারের ‘বিশাল সেন্টার’ মার্কেটে ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকানে কিছু ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে গিয়ে দোকানটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় কয়েকজনকে উগ্র আচরণ করতে দেখা যায় এবং উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে নির্লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠে।

আদালত এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন নিষ্ক্রিয়তা জনমনে ভীতি ও অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের আচরণ পেশাদারিত্বের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

এ প্রেক্ষিতে, পুলিশের এমন ভূমিকা কেন আইনবহির্ভূত ও দায়িত্বহীন হিসেবে বিবেচিত হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট ওসিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, বন্ধ করে দেওয়া ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের দোকানটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ-এর মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া