বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

পেকুয়ায় স্ত্রী হত্যা: পালানোর চেষ্টায় বিমানবন্দরে ধরা স্বামী, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
পেকুয়ায় স্ত্রী হত্যা: পালানোর চেষ্টায় বিমানবন্দরে ধরা স্বামী, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

পেকুয়া প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় পলাতক স্বামী মকসুদ আহমদকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঈদের দিন রাতেই তাকে পেকুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আত্মগোপনে চলে যান মকসুদ আহমদ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, “ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে আঞ্চলিক মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) জুমার নামাজের পর পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় গৃহবধূ শাহিদা বেগম (২৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী মকসুদ আহমদ পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

নিহত শাহিদা বেগম স্থানীয় বদিউল আলমের মেয়ে এবং অভিযুক্ত মকসুদ আহমদ কামাল হোসেনের ছেলে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া