বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেওয়ানগঞ্জে ঈদের ভিড়ে ভাসমান সেতু ধস, নদীতে পড়ে নিহত ৪

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
দেওয়ানগঞ্জে ঈদের ভিড়ে ভাসমান সেতু ধস, নদীতে পড়ে নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর:


ঈদের আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত জনসমাগমের চাপে ব্রহ্মপুত্র নদ এর ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু উল্টে গিয়ে পানিতে পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো—খাদিজা (১২), আব্দুল মোতালেব (৬), মায়ামনি (১০) ও আবির (১৬)। নিহতদের মধ্যে দুইজন সহোদর ভাই-বোন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ড্রামের সাহায্যে তৈরি ভাসমান সেতুটি দিয়ে চরাঞ্চলে যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল। ঈদের দিন হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। বিকেলের দিকে সেতুটিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে সেটি হঠাৎ উল্টে গিয়ে ভেঙে পড়ে, ফলে অনেকেই নদীতে পড়ে যান।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বেশিরভাগ মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকজন নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। উদ্ধার করে কয়েকজনকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার সঠিক কারণ নিরূপণে তদন্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া