বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেল আরোহী আইনজীবীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম
ডাকপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেল আরোহী আইনজীবীর মৃত্যু

শামীম আল-মামুন (মতিন) চট্রগ্রামঃ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান এলাকার ডাকপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কাওসার হোসেন সম্রাট (৩৫) নামে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম।

নিহত কাওসার হোসেন সম্র্রাট দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে দৌলতপুর এলাকার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সম্রাট। পথে বড়উঠান ডাকপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পিতা রুহুল আমিন জানান, বাজার করতে মোটরসাইকেলে করে চাতরী চৌমুহনী গিয়েছিলেন তার ছেলে। পরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জানতে পারেন তিনি আর বেঁচে নেই। শুক্রবার জুমার নামাজের পর তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, নিহত সম্রাটের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায় হলেও ছোটবেলা থেকেই পরিবারসহ কর্ণফুলীর দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও তিন ও দুই বছর বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া