বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

আনোয়ারায় ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম
আনোয়ারায় ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর

খোকন চন্দ্র নাথ ।। চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে মো. মহিম (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জরুরি বিভাগের দরজা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাশেম কমপ্লেক্স নামের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিম কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় মহিমকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও পরিচিতরা হাসপাতালে জড়ো হন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন জরুরি বিভাগের দরজা-গ্লাস ভাঙচুর করে এবং হাসপাতালের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম দাবি করেন, রাতে একজন লোক তার ছেলেকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং সকালে তিনি ছেলের মৃত্যুর খবর পান। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ সকালে মহিমকে হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে উত্তেজিত কয়েকজন যুবক জরুরি বিভাগের দরজায় ভাঙচুর চালায়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। মহিমের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় চারটি মামলা রয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালে সৃষ্ট উত্তেজনা পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া