বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ বাহিনীর অভিযান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৫ এম
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ বাহিনীর অভিযান

শামীম আল-মামুন (মতিন) ।। চট্রগ্রামঃ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ফজরের নামাজের পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একযোগে এলাকায় প্রবেশ করে অভিযান শুরু করেন।

অভিযানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ঢুকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী।

অভিযানে অংশ নিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১,৮০০ জন পুলিশ, ৪০০ জন র‍্যাব সদস্য, ৩৩০ জন এপিবিএন এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য। অভিযানে সহায়তার জন্য ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি), তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং তিনটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। অতীতে কয়েকবার অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি ওই এলাকায় অভিযানের সময় র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনার পর এলাকাটিকে ঘিরে নতুন করে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে ড্রোন বা ইউএভি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী পুরো অভিযানের সার্বিক সমন্বয় ও তদারকি করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া