বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার: তদন্ত ঠেকাতে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার: তদন্ত ঠেকাতে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি

শামিম আল-মামুন মতিন ।। চট্রগ্রামঃ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তারের পর তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পুলিশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ।

পুলিশ জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের সারাসিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় খাজা গরীবে নেওয়াজ খানকা শরীফের সামনে দুর্বৃত্তরা মো. সুমন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে গত ৪ মার্চ সারাসিয়া এলাকা থেকে মো. রিমন ওরফে রিটু (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন এসআই শাহিন মিয়া। পরদিন তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশের দাবি, মূল হত্যাকারীদের আড়াল করতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিন মিয়ার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া চ্যাটলিস্ট ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিচ্ছে।

পুলিশের মতে, এসব স্ক্রিনশট একটি অ্যাপ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে টাকা লেনদেন ও নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর মতো ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

এদিকে গত ৬ মার্চ সকালে এসআই শাহিন মিয়ার ব্যক্তিগত নম্বরে বিকাশ রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অজ্ঞাত উৎস থেকে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে সেটির স্ক্রিনশট নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিছুক্ষণ পরই একটি বিদেশি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বাধা দিতে যারা পুলিশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের শনাক্তের কাজ চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া