বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বেতন–ঈদ বোনাসের দাবিতে মির্জাপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
বেতন–ঈদ বোনাসের দাবিতে মির্জাপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

শামিম আল-মামুন মতিন ।। টাঙ্গাইলঃ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে বেতন ও ঈদ বোনাস না দেওয়ায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর স্পিনিং মিলসের প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে মালিকপক্ষ বেতন–বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারখানাটিতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ এবং কাঁচামালের সংকটের কারণে প্রায় তিন মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের লে–অফে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার কারখানা চালুর কথা থাকায় সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এলে কারখানার ফটকে তালা ও বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পরে মহাসড়ক অবরোধ করেন।

অবরোধের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে মির্জাপুর সেনা ক্যাম্পের কর্মকর্তা, মির্জাপুর থানার পুলিশ ও স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পরে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জলী লাল মোদী ও প্রকল্প পরিচালক বিধান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হওয়ায় শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া