বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যানার বিতর্কে বিএনপির ইফতার মাহফিলে অনুপস্থিত মেয়র শাহাদাত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ব্যানার বিতর্কে বিএনপির ইফতার মাহফিলে অনুপস্থিত মেয়র শাহাদাত
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মেজবানি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হননি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ব্যানারে নামের অবস্থান নিয়ে অভিমান থেকেই তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) নগরীর ওয়াসা মোড়ে অবস্থিত জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর জন্য আয়োজন করা হয় এই মেজবানি ইফতারের।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানের জন্য ৮টি গরু জবাই করা হয় এবং মোট ব্যয় হয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নাম ব্যানারের উপরে রাখা হয়। অন্যদিকে বিশেষ অতিথি হিসেবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম নিচে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্যানারে নামের এই অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত ইফতার মাহফিলে অংশ নেননি। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বা সংশ্লিষ্ট কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া