বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নাটোরে অর্ধেক দামে হাঁসের ডিম বিক্রি, বিপাকে শতাধিক খামারি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:১১ এম
নাটোরে অর্ধেক দামে হাঁসের ডিম বিক্রি, বিপাকে শতাধিক খামারি

হঠাৎ হাঁসের ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার শতাধিক হাঁস খামারি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ায় খামার টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে পাইকারি বাজারে প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১১ টাকায়। অথচ ফিডসহ সব ধরনের হাঁসের খাবারের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি রয়ে গেছে।

উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের কুমগ্রামের হাঁস খামারি আয়ুব আলী জানান, চলনবিল-সংলগ্ন সিংড়া বারুহাস ডুবো ব্রিজ এলাকায় তার খামার রয়েছে। খামারে মোট ১ হাজার ২০০টি হাঁসের মধ্যে প্রায় ৭০০টি হাঁস নিয়মিত ডিম দেয়। কিন্তু মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বড় সংকটে পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ৭০০টি ডিম বিক্রি করে যে টাকা পাই, সেই টাকায় এখন খামারের ১ হাজার ২০০ হাঁসের খাবারই কেনা যাচ্ছে না।

একই উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের খামারি বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে হাঁস পালন করলেও এ বছরই প্রথম এত বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ফিডসহ সব খাবারের দাম বেড়েছে। অথচ ডিমের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এভাবে চললে খামার ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।

ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারি আলাউদ্দিন বলেন, তার খামারে প্রায় ৭০০টি হাঁস রয়েছে। খাবার জোগান দিতে না পেরে দূরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোনো রকমে হাঁসগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ৭০০ হাঁসের মধ্যে প্রায় ৪০০ হাঁস ডিম দিতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০-তে।

সরেজমিনে চলনবিল অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাঁসের ডিমের বাজার হিসেবে পরিচিত সিংড়া হাট ঘুরে দেখা যায়, হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর জন্য ব্যবহৃত হ্যাচারির বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা পিসে এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিসে।

বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকার এনতাজ মন্ডল বলেন, এখন পোল্ট্রি ডিমের আমদানি অনেক বেশি। দামও কম। সে কারণেই হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আগের মতো ডিম কিনে বাজারে বিক্রি করতে পারছি না।

চলনবিল এলাকার ডিম আড়তদার মো. আলহাজ উদ্দিন জানান, প্রতিবছরই পোল্ট্রি মুরগির ডিমের আমদানি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে সব ধরনের ডিমের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বাজার বেশি দিন থাকবে না। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই ডিমের দাম আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি ডিমের উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে হাঁসের ডিমের দাম কমে গেছে। এটি মূলত বাজারভিত্তিক একটি পরিস্থিতি। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই ডিমের বাজার স্বাভাবিক হবে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া