বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের বিক্ষোভ, ভারত সরকারকে কড়া বার্তা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের বিক্ষোভ, ভারত সরকারকে কড়া বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ধর্মীয় নিপীড়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। বুধবার দুপুরে জেলা শহরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের মঠের গোড়া এলাকার পশ্চিম পাশে অবস্থিত জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে জড়ো হন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি টিএ রোড, কালীবাড়ি মোড়, মৌড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম কাসেমী এবং সঞ্চালনা করেন মুফতি জাকারিয়া খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান। এছাড়া ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মোবারকউল্লাহ। আরও বক্তব্য দেন জেলা সহসভাপতি মুফতি শামসুল হক, পৌর সভাপতি মুফতি মারুফ কাসেমী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তানভীরুল হক সিরাজী, প্রচার সম্পাদক মুফতি উবাদুল্লাহ মাদানী এবং ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক মাওলানা জুনাইদ কাসেমীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে চলেছে। তাঁরা দাবি করেন, মুসলিম নারী-পুরুষদের ওপর সহিংসতা চালানো হচ্ছে এবং উপাসনালয়েও হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা ভারত সরকারকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণেরও আহ্বান জানানো হয়।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া