বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
খাগড়াছড়িতে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় মাহিনূর আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী আবুল কালাম কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পূর্ব গচ্ছাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মানিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহিনূরের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামী আবুল কালামের দাবি, দুজনের হাতাহাতির সময় কোদালের আঘাতে মাহিনূরের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই বক্তব্য দিয়েছেন আবুল কালামের মা খাদিজা বেগম।

তবে নিহতের বাবা আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে মাহিনূরকে পরিকল্পিতভাবে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় মাহিনূরের শাশুড়ির সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন।

নিহত মাহিনূর আক্তার গোদাতলী এলাকার বাসিন্দা আবু তাহেরের মেয়ে। তিনি দুই শিশু সন্তানের জননী ছিলেন।

মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বামী আবুল কালামকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া