বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:২৮ এম
ফটিকছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে নুসরাত জাহান রুমা (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক খুলিয়া এলাকার সিকদার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নুসরাত জাহান রুমা স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাজুর কন্যা বলে জানিয়েছে পরিবার।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে নুসরাতের মা বেবি আক্তার তাকে নিয়ে নাজুর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে এই পরিবারে আসেন। বছরখানেক আগে নুসরাতের বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের কারণে বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে নুসরাত মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। বুধবার দুপুরে পরিবারের লোকজন তাকে নিজ কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, দাম্পত্য কলহ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া