বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

“মিটিংয়ে ডেকে বিকিনি পরে দেখাতে বলা হয়েছিল”—অভিনেত্রী মাদালসা শর্মার বিস্ফোরক অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম
“মিটিংয়ে ডেকে বিকিনি পরে দেখাতে বলা হয়েছিল”—অভিনেত্রী মাদালসা শর্মার বিস্ফোরক অভিযোগ

বিনোদন ডেক্সঃ

বলিউডে কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গ আবারও আলোচনায় এসেছে অভিনেত্রী মাদালসা শর্মার চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া একটি অস্বস্তিকর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

‘দ্য মেল ফেমিনিস্ট’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাত্র ১৯ বছর বয়সে এক পরিচিত চলচ্চিত্র পরিচালকের সঙ্গে মিটিংয়ে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

মাদালসার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিচালক তাঁকে একটি সিনেমা নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। শুরুতে তিনি এটিকে স্বাভাবিক অডিশন বা পেশাগত বৈঠক বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু কথোপকথনের এক পর্যায়ে পরিচালক জানতে চান, তিনি বিকিনি পরতে স্বচ্ছন্দ কি না।

প্রথমে বিষয়টিকে কাজের অংশ হিসেবেই নিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে গল্পের প্রেক্ষাপটে এর যৌক্তিকতা আছে কি না, তা বুঝতে চান। তিনি বলেন, “আমি ভাবছিলাম এটা হয়তো চরিত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তাই গল্পটা জানতে চেয়েছিলাম—এটার আসল উদ্দেশ্য কী।”

পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যখন ওই পরিচালক তাঁকে সরাসরি সামনে বিকিনি পরে দেখাতে বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি বলেছিলেন, আমার শারীরিক ভাষা দেখতে চান।”

এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দেন। একজন পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে ক্যামেরার প্রয়োজনে পোশাক পরতে তাঁর আপত্তি নেই, তবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দেখানোর জন্য তা করা তাঁর কাজের অংশ নয় বলে জানান।

মাদালসা বলেন, “আপনি যদি প্রতিভার ভিত্তিতে আমাকে সুযোগ দিতে চান, দিন—না হলে আমি জানি দরজা কোন দিকে।”

তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে জানতে পারেন, একই চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রীর সঙ্গে ওই পরিচালকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল অনুপমা-এ কাব্য চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান মাদালসা শর্মা। রূপালী গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত এই ধারাবাহিকে তাঁর সেমি-নেগেটিভ চরিত্রটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া