বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আজহারুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আজহারুল ইসলাম


নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুরঃ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণই রাজপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে রংপুর মডেল কলেজের হলরুমে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বাছাইকৃত রুকন সদস্যদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “সংসদের ভেতরে সমাধান না এলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজপথই হবে শেষ আশ্রয়।”

আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। গণভোটে পাওয়া রায় বাস্তবায়নে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি দাবি করেন, “প্রায় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-যুবকের আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছে। আমি এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা মনে করি।” এই পরিবর্তনের ফলেই তিনি কারামুক্ত হয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

গণভোট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে গিয়ে তারা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের শপথ নিয়েছেন। তবে বিএনপি সে শপথ নেয়নি এবং কয়েকটি মৌলিক অধ্যাদেশ বাতিল করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলেও জানান।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। এর মধ্যে ১২ জন সরকার মনোনীত এবং বাকি পাঁচজনের বিষয়ে জামায়াতের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে আজহারুল ইসলাম বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ১৯৭১ সালে, আর বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৮ সালে। তাদের দলে যেমন মুক্তিযোদ্ধা আছে, তেমনি জামায়াতেও রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, ঐক্যের কথা বললেও বিএনপি বাস্তবে বিভেদের রাজনীতি করছে।

এ সময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকাও উল্লেখ করে বলেন, তারা দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৭০ শতাংশ জনগণ যে রায় দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা হলে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অন্যথায় জনগণই রাজপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভুলের রাজনীতি থেকে বের হয়ে এসে জনগণের গণরায়কে সম্মান জানাতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এটিএম আযম খান, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আলাষ আমিন হাসান এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া