পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা: শিক্ষা, অবকাঠামো ও পর্যটনে জোর, বললেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
বান্দরবান প্রতিনিধি:
পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনতে শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
বৃহস্পতিবার বান্দরবান জেলার সূয়ালক ইউনিয়নে অবস্থিত ম্রো কমপ্লেক্স শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পার্বত্য এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান বান্দরবানে ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে ম্রো কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় এই প্রতিষ্ঠানকে আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সালেহ আহাম্মদ, জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান এবং উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বীন মুহাম্মদ ইয়াছির আরাফাতসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনগণকে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।
তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় পার হলেও ধাপে ধাপে সব খাতে উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে। পার্বত্য অঞ্চলের ১২টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন এবং প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এর রুহের মাগফেরাত কামনায় খাবার বিতরণ করা হয়।
পরে তিনি সূয়ালক মাঝেরপাড়ায় মারমা সম্প্রদায়ের আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবের জলকেলি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, যা স্থানীয়দের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।





