নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা, আগেও হয়েছিল হামলার শিকার
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রায় ১১ মাস আগে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
নিহত লুৎফুজ্জামান আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ি।
দোকান থেকে ফেরার পথে গুলি
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুরবাড়ির এলাকার একটি দোকানে গিয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রবীন রাংসা জানান, লুৎফুজ্জামান তাঁর দোকানে সিগারেট কিনতে এসেছিলেন। যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন রেখে চলে যান। পরে ফোন নিতে আবার দোকানে ফিরে আসেন। মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যাওয়ার সময় দুজন ব্যক্তি তাঁর পেছন দিক দিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। ভয়ে দোকানের ভেতরে চলে যান বলে জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে গুলির খোসা উদ্ধার
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, নিহতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ১১ মাস আগে লুৎফুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারা এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
সাংবাদিক হত্যার এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





