‘হ্যাক’ বলেই দায় শেষ নয়, টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ পরীমনি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি দুই তারকার বিকৃত ও আপত্তিকর ভিডিও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। তাঁর প্রশ্ন, পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি তুলে শুধু দুঃখপ্রকাশ করলেই কি দায় শেষ হয়ে যায়?
সম্প্রতি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে এসে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা এবং সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পরীমনির ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি পুরোনো ও ভুয়া হলেও প্রভাবশালী একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তাঁর দাবি, ভিডিওটি প্রায় ১১ ঘণ্টা পেজে থাকার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সরাসরি সম্প্রচারে পরীমনি বলেন, ‘ওরা এত বড় ও শক্তিশালী একটা গণমাধ্যম, অথচ ভিডিওটি টানা ১১ ঘণ্টা পেজে ঝুলিয়ে রাখা হলো। এতক্ষণেও তারা কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে পেজ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারল না? এমন গাফিলতির পর আপনি কোনোভাবেই শুধু বলতে পারেন না যে পেজ হ্যাক হয়েছে। এমন হলে তো আমিও দাবি করতে পারি আমার পেজও হ্যাক হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা ও প্রচারে জড়িত ব্যবহারকারীদের একাংশেরও সমালোচনা করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, ভিডিওটি ভুয়া—এমন বিষয় বোঝার পরও অনেকে সেটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন। এমনকি বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও ভিডিওটির লিংক খোঁজা ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা তাঁকে হতাশ করেছে।
কটূক্তিকারীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে পরীমনি বলেন, ‘তোমরা যখন এই ভুয়া ভিডিও নিয়ে এতটা উন্মাদনায় মেতেছিলে, তখন আমার ইচ্ছা হচ্ছিল নিজেই একটা খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’
দীর্ঘ সময় সরাসরি সম্প্রচারে বক্তব্য দেওয়ার পর পরীমনি ভিডিওটি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে নেন। পরে সকালে এক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ওপস সরি, ডিলেট করে দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, পরীমনি সম্প্রতি নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নতুন ওয়েব চলচ্চিত্র ‘সেপারেশন’-এর কাজ শেষ করেছেন। এতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ।
এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে নতুন প্রশ্ন
এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ব্যক্তিগত মর্যাদা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কোনো গণমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ থেকে এমন কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।
পরীমনির বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। তাঁর ক্ষোভের মূল বিষয় শুধু একটি ভুয়া ভিডিও নয়; বরং এমন কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দায়িত্ব কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, সেটিও।





