ইনানীর রিসোর্টে আগুনে নিভে গেল ১০ প্রাণ, স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী হাসপাতাল
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ নারী ও এক শিশু রয়েছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকাহত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ।
শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে প্রাণহানির ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে রিসোর্টে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর কথা ছিল, সেখানেই ঘটে গেল হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম শনিবার ১০ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উদ্ধার কার্যক্রম ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
নিহত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ছয়জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তাঁরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, কী কারণে এত প্রাণহানি ঘটল এবং রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
একটি ছুটির ভ্রমণ, প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত আর নিরাপদে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন—সবকিছু মুহূর্তেই বদলে গেল শোকের ঘটনায়। স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে এক শিশুসহ পাঁচ নারীর মৃত্যু এই ট্র্যাজেডিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
এখন সবার প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে, দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা চিহ্নিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





