রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

নদীতে ফুল ভাসিয়ে শুরু বিজু উৎসব, বিশ্বশান্তি কামনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
নদীতে ফুল ভাসিয়ে শুরু বিজু উৎসব, বিশ্বশান্তি কামনা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | এমবি টিভি:

নদীতে ফুল ভাসিয়ে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-তে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব। এ সময় পাহাড়ে মঙ্গল, শান্তি ও বিশ্বকল্যাণ কামনা করেছেন চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষজন।

রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার মাইনী নদী ও চেঙ্গী নদী-র বিভিন্ন পয়েন্টে ফুল বিজুর আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় সব বয়সী নারী-পুরুষ। ফুল ভাসানোর এ আয়োজন এক সময় মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সকালে দীঘিনালা উপজেলা-য় বিজু উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পরে মাইনী নদীতে রীতি অনুযায়ী ফুল দিয়ে দেবী গঙ্গার পূজা করা হয়।

চৈত্রের ভোরে শুরু হওয়া এই আয়োজনে চাকমা তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু ফুল, মাধবীলতা, অলকানন্দাসহ বিভিন্ন বুনো ফুল নদীতে ভাসান। পরে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন তারা।

উৎসবে অংশ নেওয়া প্রগতি চাকমা বলেন, “এটি শুধু ফুল ভাসানো নয়, আমাদের ভাষায় ‘ফুল গজানা’। আমরা মা গঙ্গার কাছে প্রার্থনা করেছি, নতুন বছর যেন সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।”

প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা বলেন, “বয়স হলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে এসেছি। মনের শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি—সবাই যেন ভালো থাকে, পৃথিবীতে শান্তি বজায় থাকে।”

তরুণী প্রিসিলা চাকমা জানান, “বন্ধুদের সঙ্গে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনের সুখ-শান্তি কামনা করেছি। এই দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি।”

উৎসব ঘিরে রাবার ড্যাম এলাকায় ভিড় করেন সমতলের দর্শনার্থীরাও। কক্সবাজার থেকে আসা উপমা বড়ুয়া ও সালমা আক্তার জানান, আগেও এই উৎসব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন, তাই আবারও দেখতে এসেছেন।

দীঘিনালা উপজেলার ইউএনও মো. তানজিল পারভেজ বলেন, “পাহাড়ের এই উৎসব বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময়। এর মাধ্যমে অশুভকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।”

চাকমা সম্প্রদায়ের এই বিজু উৎসব বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপিত হয়। প্রথম দিন ফুল বিজু, দ্বিতীয় দিন মূল বিজু এবং তৃতীয় দিন নু’অ বজর বা নতুন বছর পালন করা হয়। এর পরদিন উদযাপিত হয় ‘গোজ্যেপোজ্যে দিন’।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এই ফুল বিজু উৎসব হয়ে উঠেছে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের এক অনন্য প্রতীক।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।