বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

নদীতে ফুল ভাসিয়ে শুরু বিজু উৎসব, বিশ্বশান্তি কামনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
নদীতে ফুল ভাসিয়ে শুরু বিজু উৎসব, বিশ্বশান্তি কামনা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | এমবি টিভি:

নদীতে ফুল ভাসিয়ে পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-তে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব। এ সময় পাহাড়ে মঙ্গল, শান্তি ও বিশ্বকল্যাণ কামনা করেছেন চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষজন।

রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার মাইনী নদীচেঙ্গী নদী-র বিভিন্ন পয়েন্টে ফুল বিজুর আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেয় সব বয়সী নারী-পুরুষ। ফুল ভাসানোর এ আয়োজন এক সময় মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সকালে দীঘিনালা উপজেলা-য় বিজু উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। পরে মাইনী নদীতে রীতি অনুযায়ী ফুল দিয়ে দেবী গঙ্গার পূজা করা হয়।

চৈত্রের ভোরে শুরু হওয়া এই আয়োজনে চাকমা তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু ফুল, মাধবীলতা, অলকানন্দাসহ বিভিন্ন বুনো ফুল নদীতে ভাসান। পরে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন তারা।

উৎসবে অংশ নেওয়া প্রগতি চাকমা বলেন, “এটি শুধু ফুল ভাসানো নয়, আমাদের ভাষায় ‘ফুল গজানা’। আমরা মা গঙ্গার কাছে প্রার্থনা করেছি, নতুন বছর যেন সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।”

প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা বলেন, “বয়স হলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে এসেছি। মনের শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি—সবাই যেন ভালো থাকে, পৃথিবীতে শান্তি বজায় থাকে।”

তরুণী প্রিসিলা চাকমা জানান, “বন্ধুদের সঙ্গে চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনের সুখ-শান্তি কামনা করেছি। এই দিনের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি।”

উৎসব ঘিরে রাবার ড্যাম এলাকায় ভিড় করেন সমতলের দর্শনার্থীরাও। কক্সবাজার থেকে আসা উপমা বড়ুয়া ও সালমা আক্তার জানান, আগেও এই উৎসব দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন, তাই আবারও দেখতে এসেছেন।

দীঘিনালা উপজেলার ইউএনও মো. তানজিল পারভেজ বলেন, “পাহাড়ের এই উৎসব বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময়। এর মাধ্যমে অশুভকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।”

চাকমা সম্প্রদায়ের এই বিজু উৎসব বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপিত হয়। প্রথম দিন ফুল বিজু, দ্বিতীয় দিন মূল বিজু এবং তৃতীয় দিন নু’অ বজর বা নতুন বছর পালন করা হয়। এর পরদিন উদযাপিত হয় ‘গোজ্যেপোজ্যে দিন’।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এই ফুল বিজু উৎসব হয়ে উঠেছে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের এক অনন্য প্রতীক।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া