কালবৈশাখীর আঘাতে কক্সবাজারে লবণ উৎপাদন স্থবির, দুশ্চিন্তায় চাষিরা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আকস্মিক কালবৈশাখীর তাণ্ডবে দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে লবণ মাঠে কাজ বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো লবণচাষি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে চাষিদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, সদর ও টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ কালবৈশাখীর প্রভাবে লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মহেশখালী ছায়রাঘো এলাকার লবণচাষি আবু তাহের বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন আশানুরূপ হয়নি। শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও হঠাৎ ঝড়ে আবার সবকিছু থমকে গেছে। তিনি বলেন, “যেটুকু উৎপাদন হয়েছে, তাতেও ন্যায্য দাম মিলছে না। এখন কবে মাঠে নামতে পারব, সেটাও অনিশ্চিত।”
মগনামা এলাকার চাষি মোহাম্মদ এনাম জানান, রাতের ঝড়ে মাঠের প্রস্তুত লবণ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। উজানটিয়ার বর্গাচাষি ইসমাঈল বলেন, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ লবণের দাম প্রায় ২০০ টাকা, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ফলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এবারের কালবৈশাখীতে বাতাসের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় লবণ মাঠে ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশে ১৩ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। দেশে মোট চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে পুরোনো ও নতুন মিলে মজুত রয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবুল হাসেম বলেন, “চাষিরা একদিকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছর ধরে কম দাম ও বিদেশি লবণ আমদানির কারণে অনেক চাষি এই পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে দেশের লবণ শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজার সংকটের দ্বৈত চাপে কক্সবাজারের লবণচাষ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





