মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

কালবৈশাখীর আঘাতে কক্সবাজারে লবণ উৎপাদন স্থবির, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
কালবৈশাখীর আঘাতে কক্সবাজারে লবণ উৎপাদন স্থবির, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আকস্মিক কালবৈশাখীর তাণ্ডবে দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে লবণ মাঠে কাজ বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো লবণচাষি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে চাষিদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, সদর ও টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ কালবৈশাখীর প্রভাবে লবণ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও বুধবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মহেশখালী ছায়রাঘো এলাকার লবণচাষি আবু তাহের বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন আশানুরূপ হয়নি। শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও হঠাৎ ঝড়ে আবার সবকিছু থমকে গেছে। তিনি বলেন, “যেটুকু উৎপাদন হয়েছে, তাতেও ন্যায্য দাম মিলছে না। এখন কবে মাঠে নামতে পারব, সেটাও অনিশ্চিত।”

মগনামা এলাকার চাষি মোহাম্মদ এনাম জানান, রাতের ঝড়ে মাঠের প্রস্তুত লবণ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। উজানটিয়ার বর্গাচাষি ইসমাঈল বলেন, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ লবণের দাম প্রায় ২০০ টাকা, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ফলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এবারের কালবৈশাখীতে বাতাসের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় লবণ মাঠে ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশে ১৩ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। দেশে মোট চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে পুরোনো ও নতুন মিলে মজুত রয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবুল হাসেম বলেন, “চাষিরা একদিকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছর ধরে কম দাম ও বিদেশি লবণ আমদানির কারণে অনেক চাষি এই পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে দেশের লবণ শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজার সংকটের দ্বৈত চাপে কক্সবাজারের লবণচাষ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।