মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫০ পিএম
পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

মোঃ আরিফুল ইসলাম,,পাবনাঃ

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।