বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

বড়াইগ্রামে মসজিদের অনুদান তোলাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:০০ এম
বড়াইগ্রামে মসজিদের অনুদান তোলাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

অমর ডি কস্তা, নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে মসজিদের উন্নয়নকল্পে অনুদান তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার জোয়াডি ইউনিয়নের কায়েমকোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কায়েমকোলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে রাজিব হোসেনকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে মসজিদ কমিটির সভাপতি কায়েমকোলা গ্রামের সাহাবউদ্দিন প্রামাণিক (৪০), একই গ্রামের তারেক রহমান (৬২), পলাশ হোসেন (২০), আব্দুল মান্নান (৬৫), রুবেল হোসেন (৩৪), রাকিব হোসেন (২৫), শাকিল আহম্মেদ (৩৫) ও মনিরুল ইসলামকে (৩৫) বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে কায়েমকোলা সরকারপাড়া জামে মসজিদের পুরাতন টিন পরিবর্তনসহ অন্যান্য সংস্কার কাজের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সবাই স্বেচ্ছায় অনুদান দিতে চাইলেও ওই গ্রামের রাজিব হোসেন এতে বাঁধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়।

সন্ধ্যায় নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজিব হোসেনের অনুসারী ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সাহাবউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে পুনরায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া