বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা পরিণত হলো মৃত্যুতে, বাবার কান্না—২০ লাখ দিয়েও বাঁচাতে পারলাম না

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা পরিণত হলো মৃত্যুতে, বাবার কান্না—২০ লাখ দিয়েও বাঁচাতে পারলাম না

মাদারীপুর,প্রতিনিধিঃ

‘আমার দুই ছেলে। দুজনই কাতারে ভালো ছিল। বড় ছেলে কাউকে না জানিয়ে লিবিয়া যায়। পরে আমরা জানতে পারি। অনেক কষ্ট করে ২০ লাখ টাকা দালালকে দিয়েছি, তবু আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় মারা যাওয়া মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার যুবক ইলিয়াস হাওলাদারের বাবা কালাম হাওলাদার।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় প্রায় তিন বছর আগে কাতারে যান ইলিয়াস হাওলাদার। সেখানে এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। গত বছরের আগস্টে তিনি কাতার থেকে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে তার ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

নির্যাতনের পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। গত সোমবার (২৩ মার্চ) গুরুতর অসুস্থ হয়ে বন্দিশালাতেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর চারদিন পর স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।

শনিবার ইলিয়াসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বড় ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ তার বাবা-মা। স্ত্রী বিথি ও দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রেখে গেছেন তিনি।

ইলিয়াসের মা রানু বেগম বলেন, “আমরা কোনো বিচার চাই না, শুধু আমার ছেলের লাশটা দেশে ফিরে আসুক।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দালাল হাবিব মাস্টার ওরফে হাবিবুর রহমান খন্দকার ডাসার উপজেলার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমে শতাধিক যুবক বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক রয়েছেন বলেও জানা যায়।

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

একই ধরনের ঘটনায় গত ১৮ মার্চ লিবিয়ার আরেকটি বন্দিশালায় নির্যাতনে মারা যান ফারুক হাওলাদার। তার পরিবার ২৫ মার্চ এ খবর জানতে পারে।

ফারুকের পরিবার জানায়, তিনি দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। উন্নত জীবনের আশায় চার মাস আগে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘরে মা মালেকা বেগম, স্ত্রী লাবনী আক্তার ও দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।

মালেকা বেগম বলেন, “ছেলেটা আর বাঁচল না, ও ছাড়া আমরা কিভাবে বাঁচব?”

ফারুকের শাশুড়ি নাজমা বেগম বলেন, “দালাল বলেছে লাশ এনে দেবে। লাশ আসার পর আমরা বিচার চাইব।”

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দালালদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া