কক্সবাজারে বিস্ফোরণের শোক এখনো কাটেনি: ঈদহীন তিন পরিবার, সহায়তার অপেক্ষায় স্বজনরা
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় ভয়াবহ গ্যাসপাম্প বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো তিনজনের পরিবারে এখনো শোকের ছায়া ঘন হয়ে আছে। চারদিকে ঈদের উৎসব থাকলেও এসব পরিবারে নেই কোনো আনন্দ—বরং দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর বেদনাই তাদের নিত্যসঙ্গী।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কলাতলী বাইপাস সড়কে অবস্থিত ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’-এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। এতে আশপাশের কয়েকটি বসতঘর ও একটি গ্যারেজে থাকা প্রায় ৪০টি যানবাহন পুড়ে যায়। দগ্ধদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোতাহের মিয়া (৩৫), আবু তাহের (৪৫) ও গ্যারেজ মালিক মো. রহিম (৩৭)।
নিহত মোতাহের মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। স্ত্রী মায়েশা আক্তার তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামীর চিকিৎসার পেছনে সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে, উপরন্তু ঋণের বোঝা কাঁধে। ঈদে সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, নিয়মিত খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
একইভাবে বিপর্যস্ত আবু তাহেরের পরিবার। বড় ছেলে সোহেল ইসলাম পড়াশোনা ছেড়ে এখন অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাবাকে হারানোর পর সবকিছু বদলে গেছে। ঈদের আনন্দ এখন আমাদের কাছে অর্থহীন।”
অন্যদিকে, গ্যারেজ মালিক রহিমের পরিবারও চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। একটি জরাজীর্ণ ঘরে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী। সংসারের আয়ের একমাত্র উৎস হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই স্থাপিত গ্যাসপাম্প থেকেই এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গ্যাসপাম্প মালিক নুরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি—দ্রুত বিচার ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
ঈদের আনন্দ যখন সর্বত্র, তখন এই তিনটি পরিবারে নেমে এসেছে নীরব শোক। তাদের একটাই প্রত্যাশা—সমাজ ও রাষ্ট্র যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়।








