বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজারে বিস্ফোরণের শোক এখনো কাটেনি: ঈদহীন তিন পরিবার, সহায়তার অপেক্ষায় স্বজনরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম
কক্সবাজারে বিস্ফোরণের শোক এখনো কাটেনি: ঈদহীন তিন পরিবার, সহায়তার অপেক্ষায় স্বজনরা

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় ভয়াবহ গ্যাসপাম্প বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো তিনজনের পরিবারে এখনো শোকের ছায়া ঘন হয়ে আছে। চারদিকে ঈদের উৎসব থাকলেও এসব পরিবারে নেই কোনো আনন্দ—বরং দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর বেদনাই তাদের নিত্যসঙ্গী।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কলাতলী বাইপাস সড়কে অবস্থিত ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’-এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। এতে আশপাশের কয়েকটি বসতঘর ও একটি গ্যারেজে থাকা প্রায় ৪০টি যানবাহন পুড়ে যায়। দগ্ধদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোতাহের মিয়া (৩৫), আবু তাহের (৪৫) ও গ্যারেজ মালিক মো. রহিম (৩৭)।

নিহত মোতাহের মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। স্ত্রী মায়েশা আক্তার তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামীর চিকিৎসার পেছনে সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে, উপরন্তু ঋণের বোঝা কাঁধে। ঈদে সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, নিয়মিত খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

একইভাবে বিপর্যস্ত আবু তাহেরের পরিবার। বড় ছেলে সোহেল ইসলাম পড়াশোনা ছেড়ে এখন অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাবাকে হারানোর পর সবকিছু বদলে গেছে। ঈদের আনন্দ এখন আমাদের কাছে অর্থহীন।”

অন্যদিকে, গ্যারেজ মালিক রহিমের পরিবারও চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। একটি জরাজীর্ণ ঘরে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন তার স্ত্রী। সংসারের আয়ের একমাত্র উৎস হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই স্থাপিত গ্যাসপাম্প থেকেই এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গ্যাসপাম্প মালিক নুরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি—দ্রুত বিচার ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

ঈদের আনন্দ যখন সর্বত্র, তখন এই তিনটি পরিবারে নেমে এসেছে নীরব শোক। তাদের একটাই প্রত্যাশা—সমাজ ও রাষ্ট্র যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া