বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আপনি কার সঙ্গে কথা বলেন জানেন’ হুমকি পাওয়া সেই ডিসিকে বদলি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৩ এম
‘আপনি কার সঙ্গে কথা বলেন জানেন’ হুমকি পাওয়া সেই ডিসিকে বদলি

রাজধানীর গুলশানে পুলিশি অভিযান চলাকালে ফোনে হুমকি পাওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক আলমকে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে ডিএমপির আরও তিন কর্মকর্তাসহ মোট চারজন ডিসিকে বিভিন্ন বিভাগে রদবদল করা হয়েছে।

রবিবার (১ মার্চ) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গুলশান বিভাগের ডিসি রওনক আলমকে মহানগর ডিবির (লালবাগ) বিভাগে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রমনা বিভাগের (ট্রাফিক) ডিসি এম তানভীর আহমেদকে গুলশান বিভাগে, ডিবি লালবাগ বিভাগের ডিসি মো. মোস্তাক সরকারকে মিরপুর বিভাগে এবং মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মইনুল হককে রমনা বিভাগে (ট্রাফিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গুলশান এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের সময় গুলশান ডিসি রওনক আলম একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি ও কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তির পক্ষে বিদেশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোনের মাধ্যমে ডিসি রওনক আলমকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় হুমকি দেন। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি ডিসিকে শাসিয়ে বলছেন, ‘আপনার নাম কী? আপনি কোন ব্যাচের পুলিশ? আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন জানেন?’ এর জবাবে ডিসি রওনক আলমকে শান্তভাবে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ব্যাচ জেনে আপনি কী করবেন? আমি ২৮তম ব্যাচের।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি ডিসির অবস্থান এবং ডিউটি সম্পর্কেও আক্রমণাত্মক প্রশ্ন তোলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, এটি সংস্থার চলমান প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নেওয়া একটি স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের বদলি হয়ে থাকে এবং এখানে অন্য কোন বিষয় নেই।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া