বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঝিনাইদহে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ জনের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ঝিনাইদহে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ জনের

ঝিনাইদহে পৃথক দুর্ঘটনায় এক যুবক ও এক কিশোর নিহত হয়েছেন।

সোমবার সকালে সদর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় এক কিশোর এবং সন্ধ্যায় কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে শুভ চৌধুরী নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। শুভ বারবাজার এলাকার বেলাট গ্রামের বিদ্যুৎ চৌধুরীর ছেলে এবং পেশায় মুঠোফোন মেকানিক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর বারবাজার এলাকার আউলিয়া মসজিদের পশ্চিম পাশে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন শুভ। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

বারবাজার রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মোবাশ্বের হোসেন জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বারবাজার এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ইতিমধ্যে রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সকালে ঝিনাইদহ সদরের নৃসিংহপুর এলাকায় ট্রাকের চাপায় হুসাইন (১৪) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। হুসাইন কয়েরগাছি গ্রামের শাহীন রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সকালে বাইসাইকেলে করে ইটভাটায় কর্মরত শ্রমজীবী বাবার জন্য ভাত নিয়ে যাচ্ছিল হুসাইন। নৃসিংহপুর ইটভাটার সামনে পৌঁছালে কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহগামী একটি খড়িবোঝাই ট্রাক পেছন থেকে সাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হুসাইন চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার আবদুর রাজ্জাক জানান, দুর্ঘটনায় সাইকেলে থাকা হুসাইনের বন্ধু প্রান্ত সামান্য আহত হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটিকে আটকে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় নারী আইপিএস কর্মকর্তার বদলি, ভারতে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট | এমবি টিভি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ভারতের নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানু। তবে ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার বদলির খবর প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত বুশরা বানুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওতে তিনি জানান, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সহযোগিতা করেছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বই, মক টেস্টসহ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করেন তিনি।

তবে ভিডিওর শুরুতে ইসলামিক অভিবাদন ও ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এরপর বুশরা বানুর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। এক পক্ষ তার সরকারি পদে থেকে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করলেই তা সরকারি নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে যায় কি না—সে প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সমালোচকদের একটি অংশ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব অভিবাদন ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ব্যবহারের অধিকার কীভাবে সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া