সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নতুন ব্যবহার বাড়াচ্ছে গোলাপি লবণের বৈশ্বিক বাজার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নতুন ব্যবহার বাড়াচ্ছে গোলাপি লবণের বৈশ্বিক বাজার

বিশ্বজুড়ে সাধারণ টেবিল লবণের বিকল্প হিসেবে পিঙ্ক হিমালয়ান সল্ট বা গোলাপি লবণের চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। প্রাকৃতিক খনিজে সমৃদ্ধ এই লবণ এখন শুধু রান্নার উপকরণ নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপন, রূপচর্চা এবং থেরাপিউটিক ব্যবহারের কারণে একটি বড় বৈশ্বিক শিল্পে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বাজার গবেষণা অনুযায়ী, গোলাপি লবণের বৈশ্বিক বাজারের আকার বর্তমানে ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বছরগুলোতে এই বাজার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। এর প্রধান কারণ হলো—ভোক্তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পণ্যের প্রতি আগ্রহ।

এই লবণের প্রধান উৎস পাকিস্তানের হিমালয় অঞ্চলের খনিগুলো। সেখান থেকে আহরিত লবণ এখন ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন উন্নত দেশে ব্যাপকভাবে রপ্তানি হচ্ছে। চাহিদা বাড়ার ফলে উৎপাদনকারীরা আধুনিক প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং সরাসরি রিটেইল চেইনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভোক্তারা সাধারণ লবণের পরিবর্তে গোলাপি লবণের দিকে ঝুঁকছে মূলত এর খনিজ উপাদানের কারণে। এতে প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের মতো উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া কিছু গবেষণা ও ধারণা অনুযায়ী এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।

শুধু ঘরোয়া রান্নাতেই নয়, রেস্তোরাঁ শিল্প এবং ফুড প্রসেসিং সেক্টরেও এর ব্যবহার বাড়ছে। গুরমেট খাবারের স্বাদ ও নান্দনিকতা বাড়াতে গোলাপি লবণ এখন একটি প্রিমিয়াম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে সল্ট ব্লক গ্রিলিং এবং ডেকোরেশন আইটেম হিসেবে এর ব্যবহার খাদ্য ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

খাদ্য খাতের বাইরেও কসমেটিকস ও স্পা ইন্ডাস্ট্রিতে এর ব্যবহার ব্যাপক। বাথ সল্ট, ফেস স্ক্রাব এবং স্পা ট্রিটমেন্টে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি হিমালয়ান সল্ট ল্যাম্প ঘরের বাতাস পরিশোধন ও মানসিক প্রশান্তির প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা এই শিল্পকে আরও সম্প্রসারিত করছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে উত্তর আমেরিকা এই লবণের সবচেয়ে বড় বাজার। সেখানে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ক্রয়ক্ষমতা বেশি হওয়ায় প্রিমিয়াম দামে এই পণ্য সহজেই গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত ও চীনের মতো এশীয় দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনমান উন্নয়নের কারণে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

তবে এই দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তুলনামূলক উচ্চমূল্যের কারণে এটি সব শ্রেণির ভোক্তার নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে ভেজাল বা কৃত্রিম রং মেশানো নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগও উঠছে, যা ভোক্তা আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ তথ্য এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এই বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ই-কমার্সের প্রসার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সহজে এই পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গোলাপি হিমালয়ান সল্ট এখন আর শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়, বরং স্বাস্থ্য, জীবনধারা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি দ্রুতবর্ধনশীল খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজার আরও বহুগুণ বড় হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।