ভোরের আঁধারে মাদারীপুরে স্বর্ণকার পট্টিতে তাণ্ডব, ৬ দোকান লুট—কোটি টাকার ক্ষতি, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদি বাজারে ভয়াবহ ও পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতের নিস্তব্ধতায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল স্বর্ণকার পট্টিতে হামলা চালিয়ে একের পর এক ৬টি স্বর্ণের দোকান লুট করে নিয়ে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দিবাগত ভোররাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাত গভীর হলে বাজারের সব দোকান বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন কয়েকজন পাহারাদার। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই অকার্যকর করে ফেলে ডাকাতদল।পরিকল্পিত হামলা ও পাহারাদারকে জিম্মিভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের কোনো এক সময় মুখোশধারী ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল বাজারে প্রবেশ করে। তারা প্রথমেই পাহারাদারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং পরে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়, যাতে সে কোনো ধরনের প্রতিরোধ বা সতর্ক সংকেত দিতে না পারে।এরপর পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ডাকাতরা।

একের পর এক দোকানে লুটপাট,ডাকাতরা প্রথমে ‘নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স’-এ হানা দেয়। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং দোকানের মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। এরপর একই কায়দায় পাশের আরও পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে হামলা চালায়।ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাতরা অত্যন্ত পেশাদার কৌশলে কাজ করেছে। তারা দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে, আলমারি ও সিন্দুক ভেঙে অথবা পুরো সিন্দুকই নিয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে ভারী সিন্দুক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে গাড়িতে তুলে নেওয়ারও আলামত পাওয়া গেছে।কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতি আমরা কীভাবে সামলাবো বুঝতে পারছি না।”ঘটনাস্থলে পুলিশ, তদন্ত শুরু,ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বাজারে ভিড় করেন। পরে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তদন্ত শুরু করে।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) সংগ্রহ করে ডাকাতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।পুলিশের বক্তব্য ,মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারা জড়িত তা শনাক্তে কাজ চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা,এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন বড় ধরনের ডাকাতি সম্ভব হয়েছে। অনেকেই রাতের বেলা টহল জোরদার এবং স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।এদিকে, এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ ঘটতে পারে।





