মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে প্রশ্নবাণ, যা বললেন মনজুর আলম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে প্রশ্নবাণ, যা বললেন মনজুর আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ–এর একটি ব্যক্তিগত সফর ঘিরে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক মেয়র মনজুর আলম–এর বাসভবনে তার উপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় অবস্থিত মনজুর আলমের ব্যক্তিগত বাসভবনে যান হাসনাত আব্দুল্লাহ। জানা গেছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সৌজন্য সাক্ষাৎ। দুপুরে ফোনালাপের মাধ্যমে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

তবে এই সফরের কিছু সময় পরই বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারা মনজুর আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জানতে চান—কেন এনসিপির একজন নেতা তার বাসায় গিয়েছেন।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই বাইরে এসে উপস্থিত যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে তিনি সেখান থেকে বিদায় নেন।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মনজুর আলম বলেন,
“হাসনাত সাহেব চট্টগ্রামে একটি প্রোগ্রামে এসেছিলেন। সেখান থেকে আমাকে ফোন করে বাসায় আসার কথা জানান। আমি তাকে সৌজন্যবশত খাবারের দাওয়াত দিই। তিনি এসে খেয়েছেন, গল্প করেছেন—এটাই স্বাভাবিক একটি বিষয়।”

ভাইরাল ভিডিওতে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তোলার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমি আওয়ামী লীগ করি না। আমি বিএনপির সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাহলে আমি আওয়ামী লীগের দোসর হলাম কীভাবে?”

তিনি আরও দাবি করেন, বাসার সামনে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় এবং অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে মনজুর আলম বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্তমানে সমাজসেবামূলক কাজে সময় দিচ্ছেন।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন,
“মানুষ অনেক কিছুই বলে। কিন্তু আমি কোথাও বলিনি যে আমি নির্বাচন করবো।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পরও মনজুর আলমের নাম ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়া এবং এনসিপি নেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ—এ দুটি বিষয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে।

উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান।


নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।