জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার জোরালো আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে আজ সকালে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রমনা পার্ক গিয়ে শেষ হয়। পথে পথে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রাটি উপভোগ করেন এবং অনেকেই এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
শোভাযাত্রায় বাংলার প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপনা ছিল লক্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা, ডালা, মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ। অনেকেই লাল-সাদা পাঞ্জাবি, শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।
শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তারা বিভিন্ন রঙিন মুখোশ, ফুল ও গ্রামীণ উপকরণ হাতে নিয়ে উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে জারি, সারি, ভাটিয়ালি ও দেশাত্মবোধক গানের সুরে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও প্রাণচঞ্চল।
শোভাযাত্রা শুরুর আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বায়নের প্রভাবে দেশীয় সংস্কৃতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তারা মনে করেন, বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির চর্চা কমে যাওয়ায় সমাজে একধরনের সাংস্কৃতিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাঠ্যপুস্তক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও গণমাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও জোর দেন তারা।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, সংস্কৃতিচেতনা ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে।





