সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার জোরালো আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম
জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার জোরালো আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রাজধানীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে আজ সকালে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রমনা পার্ক গিয়ে শেষ হয়। পথে পথে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রাটি উপভোগ করেন এবং অনেকেই এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় বাংলার প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপনা ছিল লক্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা, ডালা, মাটির হাঁড়ি-পাতিলসহ গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ। অনেকেই লাল-সাদা পাঞ্জাবি, শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।

শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তারা বিভিন্ন রঙিন মুখোশ, ফুল ও গ্রামীণ উপকরণ হাতে নিয়ে উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে জারি, সারি, ভাটিয়ালি ও দেশাত্মবোধক গানের সুরে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও প্রাণচঞ্চল।

শোভাযাত্রা শুরুর আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বায়নের প্রভাবে দেশীয় সংস্কৃতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তারা মনে করেন, বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির চর্চা কমে যাওয়ায় সমাজে একধরনের সাংস্কৃতিক শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাঠ্যপুস্তক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও গণমাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও জোর দেন তারা।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, সংস্কৃতিচেতনা ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।