কক্সবাজার উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযান: ১৮ জলদস্যু-পাচারকারী আটক, ১২ জন উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে পৃথক তিনটি অভিযানে ১৮ জন জলদস্যু ও পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে জিম্মি থাকা জেলে ও ভাসমান নাগরিকসহ মোট ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কলাতলী সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। তল্লাশিতে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ‘পারভেজ বাহিনী’র ১০ সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, জেলেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে একটি পক্ষ অন্য পক্ষকে ডেকে এনে কোস্টগার্ডের মাধ্যমে ‘জলদস্যু’ হিসেবে আটক করিয়েছে। এমনকি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এদিকে একই রাতে পৃথক আরও দুটি অভিযানে বাঁকখালী নদীর মোহনা এলাকায় ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, লুব্রিকেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার এবং ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৯ জনকে গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। গত ১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ। পরে তাদের কোস্টগার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযান উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





