মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

কক্সবাজার উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযান: ১৮ জলদস্যু-পাচারকারী আটক, ১২ জন উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ এম
কক্সবাজার উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযান: ১৮ জলদস্যু-পাচারকারী আটক, ১২ জন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে পৃথক তিনটি অভিযানে ১৮ জন জলদস্যু ও পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে জিম্মি থাকা জেলে ও ভাসমান নাগরিকসহ মোট ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কলাতলী সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। তল্লাশিতে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ‘পারভেজ বাহিনী’র ১০ সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, জেলেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে একটি পক্ষ অন্য পক্ষকে ডেকে এনে কোস্টগার্ডের মাধ্যমে ‘জলদস্যু’ হিসেবে আটক করিয়েছে। এমনকি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এদিকে একই রাতে পৃথক আরও দুটি অভিযানে বাঁকখালী নদীর মোহনা এলাকায় ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, লুব্রিকেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার এবং ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৯ জনকে গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। গত ১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ। পরে তাদের কোস্টগার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এ ধরনের অভিযান উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।