সংসদে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি, তীব্র সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কিংবা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণ শোনেননি কিংবা পড়েননি এবং এ ভাষণকে তিনি ও তাঁর দল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির অপসারণ এখন সময়ের দাবি এবং তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালে মো. সাহাবুদ্দিন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে কাজ করেছেন। তার ভাষায়, তৎকালীন সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় প্রভাবিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বদানসহ বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।
এছাড়া তিনি ব্যাংক খাত ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। জুলাইয়ের সহিংসতা এবং পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাষ্ট্রপতির জবাবদিহিতা দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রসমাজ রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এখন যখন নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তখনও কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—এ প্রশ্ন রয়ে গেছে।’
তার বক্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির পদে থাকা অনৈতিক এবং তাকে অপসারণসহ আইনি প্রক্রিয়ায় আনা প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে সরকার পক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।





