সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সংসদে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি, তীব্র সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম
সংসদে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি, তীব্র সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার কিংবা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণ শোনেননি কিংবা পড়েননি এবং এ ভাষণকে তিনি ও তাঁর দল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির অপসারণ এখন সময়ের দাবি এবং তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালে মো. সাহাবুদ্দিন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে কাজ করেছেন। তার ভাষায়, তৎকালীন সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় প্রভাবিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বদানসহ বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।

এছাড়া তিনি ব্যাংক খাত ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। জুলাইয়ের সহিংসতা এবং পূর্ববর্তী রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাষ্ট্রপতির জবাবদিহিতা দাবি করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রসমাজ রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এখন যখন নির্বাচিত সরকার রয়েছে, তখনও কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—এ প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

তার বক্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির পদে থাকা অনৈতিক এবং তাকে অপসারণসহ আইনি প্রক্রিয়ায় আনা প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে সরকার পক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।