সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ঋতুচক্রের ওলটপালট, চৈত্রের দাবদাহ উধাও, জেঁকে বসেছে পৌষের শীত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ২:২৬ পিএম
ঋতুচক্রের ওলটপালট, চৈত্রের দাবদাহ উধাও, জেঁকে বসেছে পৌষের শীত

 

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

“হিতে বিপরীত, বিপরীতে হিত / চৈত্র মাসে পৌষের শীত” খনার বচনের মতো শোনানো এই পঙক্তিটিই এখন ঢাকা ও এর আশপাশের জনপদে বাস্তব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋতুচক্রের হিসেবে এখন চৈত্রের মাঝামাঝি। তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে যেখানে তালপাখা হওয়ার কথা ছিল নিত্যসঙ্গী, সেখানে মানুষ এখন গায়ে দিচ্ছে কাঁথা আর কম্বল। প্রকৃতির এই আকস্মিক উল্টো রথে খোদ আবহাওয়া বিদরাও বিস্মিত।

সাধারণত চৈত্র মাস মানেই কাঠফাটা রোদ, খাল-বিল শুকিয়ে চৌচির হওয়া আর খাঁ খাঁ দুপুর। প্রতিবছর এই সময়ে হাতপাখা বা বৈদ্যুতিক পাখার নিচেও স্বস্তি মেলে না। কিন্তু ২০২৬ সালের এই মার্চে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সবুজ প্রান্তর, আর রাতে আলমারি থেকে বের করতে হচ্ছে তুলে রাখা কাঁথা ও কম্বল।

যেখানে চৈত্রের দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার কথা, সেখানে মানুষ এখন সর্দি-কাশির মতো শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এই অকাল শীত ও বৃষ্টির মিশ্রণে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে আম ও লিচুর মুকুল এবং বোরো ধানের জন্য এই আবহাওয়া মোটেও অনুকূল নয়।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রোজা বা ঈদের পরবর্তী এই সময়ে তপ্ত গরমের বদলে শীতল আবহাওয়া অনেককে প্রশান্তি দিলেও, প্রকৃতির এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।চৈত্রের এই রূপ যেন কবির সেই চিরন্তন বাণীর প্রতিচ্ছবি প্রকৃতি যখন রুষ্ট হয়, তখন নিয়ম ভেঙে সে নিজের নতুন রূপ প্রকাশ করে। তবে যে কারণেই হোক, চৈত্রের দুপুরে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর এই বিরল অভিজ্ঞতা দোহার-নবাবগঞ্জ তথা সারা দেশের মানুষের কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি নিয়ে নামার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আমাদের থামানোর সুযোগ নেই, আমরা থামব না।”

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আসন্ন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম করার তাগিদ দেন জামায়াত আমির। গত জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের ভুল ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

সমাজ পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। আগামী মেয়র নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রেখে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংগঠনের সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে ‘নাগরিক সেবা’ নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দাবি, এতে নাগরিকদের জন্য ৫০টির বেশি সেবামূলক সুবিধা থাকবে।

সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুকন সদস্য ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন।