বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে প্রশ্নবাণ, যা বললেন মনজুর আলম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
চট্টগ্রামে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা: ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে প্রশ্নবাণ, যা বললেন মনজুর আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম নগরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ–এর একটি ব্যক্তিগত সফর ঘিরে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক মেয়র মনজুর আলম–এর বাসভবনে তার উপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় অবস্থিত মনজুর আলমের ব্যক্তিগত বাসভবনে যান হাসনাত আব্দুল্লাহ। জানা গেছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সৌজন্য সাক্ষাৎ। দুপুরে ফোনালাপের মাধ্যমে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান এবং একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

তবে এই সফরের কিছু সময় পরই বাসার সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারা মনজুর আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জানতে চান—কেন এনসিপির একজন নেতা তার বাসায় গিয়েছেন।

ঘটনার সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই বাইরে এসে উপস্থিত যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে তিনি সেখান থেকে বিদায় নেন।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মনজুর আলম বলেন,
“হাসনাত সাহেব চট্টগ্রামে একটি প্রোগ্রামে এসেছিলেন। সেখান থেকে আমাকে ফোন করে বাসায় আসার কথা জানান। আমি তাকে সৌজন্যবশত খাবারের দাওয়াত দিই। তিনি এসে খেয়েছেন, গল্প করেছেন—এটাই স্বাভাবিক একটি বিষয়।”

ভাইরাল ভিডিওতে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তোলার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমি আওয়ামী লীগ করি না। আমি বিএনপির সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাহলে আমি আওয়ামী লীগের দোসর হলাম কীভাবে?”

তিনি আরও দাবি করেন, বাসার সামনে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় এবং অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে মনজুর আলম বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং বর্তমানে সমাজসেবামূলক কাজে সময় দিচ্ছেন।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন,
“মানুষ অনেক কিছুই বলে। কিন্তু আমি কোথাও বলিনি যে আমি নির্বাচন করবো।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পরও মনজুর আলমের নাম ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়া এবং এনসিপি নেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ—এ দুটি বিষয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিতে পারে।

উল্লেখ্য, মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান।


সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গায়ের জোরের শামিল। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের কিছু বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আবার কিছু বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই কোন বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণে সংবিধানের বিধান ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে। এসব আপত্তি ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারও বক্তব্য না শুনে নিজেদের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হলে সংসদে আলোচনা এবং সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রিজভী

দেশের জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প উৎস থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানির মাধ্যমে দেশের কলকারখানা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতিও আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জাপান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সফর ও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা

স্মরণসভায় প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত, বিনয়ী ও আদর্শবান রাজনীতিক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কারও সঙ্গে কটুকথা বলতেন না এবং সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতেন। দলের নেতাকর্মীদের অভিভাবকের মতো স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার, পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও কলঙ্কলেপনের প্রবণতা বাড়ছে। এমন সময়ে শামসুল হুদার মতো অভিভাবকতুল্য, নীতি ও আদর্শে অটল নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন, মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।