বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

হোসেনপুরে নিজস্ব ভবন নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম
হোসেনপুরে নিজস্ব ভবন নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মো: এনামুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জঃ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নিজের ভবন নির্মাণ ও প্লাস্টারের কাজে প্রতিবেশীদের বাধা প্রদান, নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মুহাম্মদ রুহুল আমিন।
আজ (১৩ এপ্রিল ২০২৬) হোসেনপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ঢেকিয়া এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মুহাম্মদ রুহুল আমিন (৫০)।

ভুক্তভোগী জানান, হোসেনপুর থানাধীন ঢেকিয়া এলাকার হনুমান তলা খাজা স্টুডিওর সামনে পশ্চিম পাশে তিনি নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে তিন তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজের এক পর্যায়ে প্রতিবেশীর টিনের চালায় সামান্য বালু পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তিনি তা নতুন টিন দিয়ে মেরামত করে দেবেন।
তিনি আরও জানান, সালিশি সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ একমত হলেও পরবর্তীতে কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী মোঃ আশরাফুল আলম (৪০) ও তার পুত্র মোঃ অনিক মিয়া নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করতে থাকেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ০১/০২/২০২৫ তারিখ থেকে বিবাদীপক্ষ ধারাবাহিকভাবে প্লাস্টারের কাজে বাধা দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় ১,২০,০০০ (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকার নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ভবনটি বর্তমানে প্লাস্টারবিহীন থাকায় বৃষ্টির পানি দেয়াল বেয়ে বৈদ্যুতিক লাইনে প্রবেশ করছে, এতে যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট হয়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, গত ২৫/০৩/২০২৬ তারিখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে বিবাদীপক্ষ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কাজ করলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, স্থানীয় মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন,
“আমি আমার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে বৈধভাবে ভবন নির্মাণ করছি। কিন্তু বিবাদীপক্ষের অযৌক্তিক বাধা ও হুমকির কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আমাকে ভবনের প্লাস্টার কাজ সম্পন্ন করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।”

এ সময় স্থানীয় সাক্ষী মোঃ সোহাগ মিয়া, আবু সাহিদ মেম্বার, মোঃ শওকত আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গায়ের জোরের শামিল। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের কিছু বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আবার কিছু বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই কোন বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণে সংবিধানের বিধান ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে। এসব আপত্তি ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারও বক্তব্য না শুনে নিজেদের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হলে সংসদে আলোচনা এবং সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রিজভী

দেশের জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প উৎস থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানির মাধ্যমে দেশের কলকারখানা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতিও আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জাপান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সফর ও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা

স্মরণসভায় প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত, বিনয়ী ও আদর্শবান রাজনীতিক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কারও সঙ্গে কটুকথা বলতেন না এবং সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতেন। দলের নেতাকর্মীদের অভিভাবকের মতো স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার, পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও কলঙ্কলেপনের প্রবণতা বাড়ছে। এমন সময়ে শামসুল হুদার মতো অভিভাবকতুল্য, নীতি ও আদর্শে অটল নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন, মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।