বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কক্সবাজার উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযান: ১৮ জলদস্যু-পাচারকারী আটক, ১২ জন উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ এম
কক্সবাজার উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযান: ১৮ জলদস্যু-পাচারকারী আটক, ১২ জন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে পৃথক তিনটি অভিযানে ১৮ জন জলদস্যু ও পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই সঙ্গে জিম্মি থাকা জেলে ও ভাসমান নাগরিকসহ মোট ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কলাতলী সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ফিশিং বোট ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। তল্লাশিতে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ‘পারভেজ বাহিনী’র ১০ সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনরা এ ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, জেলেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে একটি পক্ষ অন্য পক্ষকে ডেকে এনে কোস্টগার্ডের মাধ্যমে ‘জলদস্যু’ হিসেবে আটক করিয়েছে। এমনকি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এদিকে একই রাতে পৃথক আরও দুটি অভিযানে বাঁকখালী নদীর মোহনা এলাকায় ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, লুব্রিকেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডার এবং ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৯ জনকে গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। গত ১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ। পরে তাদের কোস্টগার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এ ধরনের অভিযান উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গায়ের জোরের শামিল। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের কিছু বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আবার কিছু বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই কোন বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণে সংবিধানের বিধান ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে। এসব আপত্তি ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারও বক্তব্য না শুনে নিজেদের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হলে সংসদে আলোচনা এবং সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রিজভী

দেশের জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প উৎস থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানির মাধ্যমে দেশের কলকারখানা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতিও আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জাপান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সফর ও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা

স্মরণসভায় প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত, বিনয়ী ও আদর্শবান রাজনীতিক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কারও সঙ্গে কটুকথা বলতেন না এবং সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতেন। দলের নেতাকর্মীদের অভিভাবকের মতো স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার, পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও কলঙ্কলেপনের প্রবণতা বাড়ছে। এমন সময়ে শামসুল হুদার মতো অভিভাবকতুল্য, নীতি ও আদর্শে অটল নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন, মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।