বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পুনর্মিলনী, ইফতার ও মেজবান আয়োজন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পুনর্মিলনী, ইফতার ও মেজবান আয়োজন

পেকুয়া প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা। বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল, আলোচনা সভা ও চাটগাঁইয়া ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন ঘিরে দিনটি পরিণত হয় এক আবেগঘন পুনর্মিলনীতে।

বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। নবীন ও প্রবীণদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে, সৃষ্টি হয় আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে এক স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্কুল জীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সেই পুরনো সম্পর্ক, বন্ধুত্ব আর শৈশবের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমদ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক। তাঁরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রেখে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এছাড়া বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি তাদের জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

আলোচনা শেষে ইফতার অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে সবাই অংশ নেন ঐতিহ্যবাহী চাটগাঁইয়া মেজবানে। দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে আনন্দে ভাসেন অংশগ্রহণকারীরা।

আয়োজকরা জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা হবে।

সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গায়ের জোরের শামিল। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের কিছু বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আবার কিছু বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই কোন বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণে সংবিধানের বিধান ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে। এসব আপত্তি ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারও বক্তব্য না শুনে নিজেদের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হলে সংসদে আলোচনা এবং সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রিজভী

দেশের জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প উৎস থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানির মাধ্যমে দেশের কলকারখানা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতিও আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জাপান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সফর ও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা

স্মরণসভায় প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত, বিনয়ী ও আদর্শবান রাজনীতিক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কারও সঙ্গে কটুকথা বলতেন না এবং সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতেন। দলের নেতাকর্মীদের অভিভাবকের মতো স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার, পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও কলঙ্কলেপনের প্রবণতা বাড়ছে। এমন সময়ে শামসুল হুদার মতো অভিভাবকতুল্য, নীতি ও আদর্শে অটল নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন, মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।