বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় স্বস্তির বার্তা: সরকারি ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত আসছে মন্ত্রিসভায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম
ঈদযাত্রায় স্বস্তির বার্তা: সরকারি ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত আসছে মন্ত্রিসভায়

রাজধানীসহ সারা দেশে ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর সরকারি ছুটি পাঁচ দিন থেকে আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে এবং সেখানেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে যে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ঈদের আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে আরও চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে—১৯ ও ২০ মার্চ (ঈদের আগে)২২ ও ২৩ মার্চ (ঈদের পরে)সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি কার্যকর রয়েছে।
প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে লাখো মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যান। এ সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ যানজট, টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভিড় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটি এক বা দুই দিন বাড়ানো হলে যাত্রা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে একদিনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমবে এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে বা পরে অতিরিক্ত ছুটি যোগ করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

আগামী বৈঠকে অনুমোদন মিললে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হবে। ঘরমুখী মানুষের প্রত্যাশা—সরকার ছুটি বাড়ালে ঈদযাত্রার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য এটি হবে বড় স্বস্তির খবর। এখন সবার দৃষ্টি আসন্ন মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকে। সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা দ্রুত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

এমবি টিভি | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে: রিজভী

সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গায়ের জোরের শামিল। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের কিছু বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আবার কিছু বিষয় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই কোন বিষয় কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নির্ধারণে সংবিধানের বিধান ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে। এসব আপত্তি ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কারও বক্তব্য না শুনে নিজেদের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হলে সংসদে আলোচনা এবং সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রিজভী

দেশের জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বর্তমানে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প উৎস থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানির মাধ্যমে দেশের কলকারখানা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতিও আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে জাপান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ, সফর ও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা

স্মরণসভায় প্রয়াত শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত, বিনয়ী ও আদর্শবান রাজনীতিক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কারও সঙ্গে কটুকথা বলতেন না এবং সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতেন। দলের নেতাকর্মীদের অভিভাবকের মতো স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতেন।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে মিথ্যাচার, পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও কলঙ্কলেপনের প্রবণতা বাড়ছে। এমন সময়ে শামসুল হুদার মতো অভিভাবকতুল্য, নীতি ও আদর্শে অটল নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন, মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।