বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আফতাবনগর-বনশ্রী সেতু চালু, কমবে ৪০ মিনিটের ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | এমবি টিভি প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
আফতাবনগর-বনশ্রী সেতু চালু, কমবে ৪০ মিনিটের ভোগান্তি

রাজধানীর আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ডেমরাগামী রামপুরা-বনশ্রী সড়কের ফরাজী হাসপাতালের পাশে, রামপুরা (বেগুনবাড়ী) খালের ওপর নির্মিত পদচারী সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই সেতু চালু হওয়ায় দুই এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় বাঁচবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার আফতাবনগরে ৪২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। সেতুটির প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার। স্টিলের কাঠামোর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব ও টাইলস দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এতদিন আফতাবনগর ও বনশ্রীর বাসিন্দাদের রামপুরা (বেগুনবাড়ী) খাল পার হতে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। পদচারী সেতু চালু হওয়ায় এখন তাঁদের যাতায়াতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে।

তিনি জানান, এর পাশাপাশি আরও দুটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ভবিষ্যতে এমআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বিকল্প বা বাইপাস রুট হিসেবে এসব সেতু প্রধান সড়কের ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পদচারী সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সোসাইটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বেনাপোলে বন্ধ ভারতীয় ইলিশ আমদানি,স্বস্তিতে দেশি ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | এমবি টিভি প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
বেনাপোলে বন্ধ ভারতীয় ইলিশ আমদানি,স্বস্তিতে দেশি ব্যবসায়ীরা

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। বুধবার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোনো ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বা এনওসি বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে হঠাৎ করে ইলিশ আমদানির অনুমতি বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, আমদানি করা ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বা অর্থপাচারের আশঙ্কা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের উৎসাহিত করার বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকতে পারে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়েছিল। আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে দেশীয় ইলিশ ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাজারে দেশীয় ইলিশের চাহিদা বাড়তে পারে।

তবে আমদানিকারকদের দাবি, হঠাৎ আমদানি বন্ধ হওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে ভারতীয় বাজারে ইলিশ কিনে রাখা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ইলিশ আমদানি বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৫৩ মেট্রিক টন ভারতীয় ইলিশ আমদানি হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি হবে কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকাল থেকে কোনো ভারতীয় ইলিশ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি।