জন্মশতবার্ষিকী-সুবর্ণজয়ন্তী: রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

জন্মশতবার্ষিকী-সুবর্ণজয়ন্তী: রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

নিউজ ডেস্ক : 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসব অনুষ্ঠানে পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ বিভিন্ন দেশের অতিথিরা অংশ নেবেন।

 

বিদেশি ভিভিআইপি অতিথিদের আগমন এবং আয়োজিত অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভিভিআইপি অতিথিদের চলাচল, অনুষ্ঠানস্থল ও থাকার জায়গা ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ফোর্স ও কর্মকর্তাদের কার কী ভূমিকা থাকবে—এ ব্যাপারে সবিস্তারে নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা নেই। তারপরেও ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া, নির্দেশনা অনুযায়ী ভিভিআইপি অতিথিদের সফর উপলক্ষ্যে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নতুন কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সূত্র জানায়, ভিভিআইপিসহ বিদেশি অতিথিরা যেসব হোটেলে অবস্থান করবেন সেসব হোটেলের ভেতরে ও বাইরে ইউনিফর্মে ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য মোতায়েন থাকবে। তারা হোটেলের যে ফ্লোরে অবস্থান করবেন সেখানে অন্য কোনো অতিথি অবস্থান করতে পারবেন না।

 

ঢাকা মহানগরীর যেসব রাস্তা দিয়ে ভিভিআইপিরা আসা-যাওয়া করবেন সেসব সড়কেও থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভিভিআইপিদের গমনাগমনের সময় রাস্তার ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজে কেউ চলাচল করতে পারবেন না। ভিভিআইপিরা চলাচলের সময় কেউ যেন অসৌজন্যমূলক বস্তু/পোস্টার/ব্যানার প্রদর্শন করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, অহেতুক আড্ডা, গণজমায়েত বন্ধের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যক্রম যাতে না হয় সেজন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো হচ্ছে ব্লক রেইড।

 

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি যাতে না থাকে সেজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে সোনারগাঁ হোটেলের আশপাশ যেমন বাংলামোটর, মগবাজার, কাওরান বাজার ও এর আশে-পাশের এলাকায় ব্লক রেইড চালানো হচ্ছে।

 

বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের বাংলাদেশ সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অতিথি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান সম্পর্কে উস্কানিমূলক পোস্ট, ছবি, বিরূপ মন্তব্য ও গুজব ছড়াতে না পারে। এছাড়া, বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি রয়েছে।

 

 


Leave a Reply

Your email address will not be published.